কাদাজলে ফুটবল

এলোপাথাড়ি ফুটবল নয়।

না এবার বিশ্বকাপ নয়।
আমার কৈশোর আর প্রথম যৌবনের ফুটবল।

আমি ছোটবেলা থেকেই খেলা পাগল। বিশেষ করে ফুটবল টা খেলতে ভালোবাসতাম। মন প্রাণ দিয়ে খেলতাম। খেলাটা ভীষণ এনজয় করতাম।পড়াশুনো করতাম কিন্তু আমাদের সময় দু তিন ঘন্টা পড়লেই মোটামুটি বাবা মা কে খুশী করার মতন রেজাল্ট পাওয়া যেত ।তাই সাড়া বছর খেলাটা অনেক সময় নিয়ে উপভোগ করতাম। এখানে শুধু ফুটবল নিয়ে ই দু এক কথা বলি।
বর্ষার দিনে শুধু আজ বর্ষার ফুটবল মনে পড়ছে। স্কুল থেকে ফিরেই বিকেলবেলা দুটো মুখে গুঁজে ছুটতাম পাই পাই করে খেলার মাঠের দিকে। মাঠ মানে খালি জায়গা যেখানে বাড়ীঘর হয় নি, কোথাও চার/ পাঁচ কাটা জমি কোথাও দেড় দু বিঘে খালি উচু নীচু জমি।  বর্ষার জল পরলে মাঠ  প্রথমে পিচ্ছিল, পরে কাদাজল আর কাদায় পূর্ণ হয়ে যেত। আর অতিবর্ষা তে ডোবা বা বিল। জলে ভরা বিল হবার আগে পর্যন্ত আমরা খেলতাম। আমরা খেলতাম মুষলধারা বৃষ্টি তে।বৃষ্টিতে মাঠ কোথাও পিছলে, কোথাও কাদায় ভরা। কোন কোন জায়গায় খানিকটা জল জমে থাকত। এইরকম মাঠে ডিফেন্স আর আ্যটাক করা দুটোই ছিল ভীষন মজার আর কঠিনও। ড্রিবল করে দু তিনজন কে কাটিয়ে নিজেই মাটিতে সঠান। আবার নিরীহ শটে গোলকিপার মাটিতে পরে গোল খেয়ে যায়। মজার খেলা কিন্তু দেখতে ও দারুন। আবার নিশ্চিত গোল কাদায় আটকে যাওয়াতে গোল হোত না অথচ গোলকিপার মাটিতে পা পিছলে ধড়াস। হাসতে হাসতে খেলা আর খেলতে খেলতে হাসা। খেলার শেষে কেউ কাউকে চিনতে পারতাম না। সারা গায়ে কাদা মাখা এমনকি দাঁতে কাদা , চোখও কাদাতে ঢাকা ।কোন রকমে তাকিয়ে দেখতাম।
সবশেষে পাড়ার বড় পুকুরে দাপাদাপি করে স্নান। ঘরে ফিরে মা এর বকাটাও মোকাবিলা করতে হোত।
মাঝে মাঝে শামুকে পা কাটত যার জন্য এক দুসপ্তাহ খেলা বন্ধ। 


চোখ বুজে কল্পনা করি আর কৈশোরের সেই সব দিনগুলি কে দেখতে পাই।

Comments